তাপ ও তাপমাত্রা

দিন/রাত

CLASS NO: 06

চলো, কিছু অঙ্ক কষে নিই! (গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান)

এই পর্বে আমরা আগের ক্লাসগুলোতে যা শিখেছি, তার উপর ভিত্তি করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক সমস্যার সমাধান করব। এতে তোমার ধারণা আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

টাইপ ১: শুধু তাপমাত্রার পরিবর্তন (H = mst)

প্রশ্ন ১: 100 গ্রাম ভরের একখণ্ড তামাকে 60°C থেকে 40°C-এ ঠান্ডা করা হলো। কী পরিমাণ তাপ বেরিয়ে যাবে? (তামার আপেক্ষিক তাপ = 0.09 cal/g°C)

দেওয়া আছে:
ভর (m) = 100 গ্রাম
আপেক্ষিক তাপ (s) = 0.09 cal/g°C
তাপমাত্রার পরিবর্তন (t) = 60°C - 40°C = 20°C

ব্যবহৃত সূত্র: H = m × s × t

সমাধান:
H = 100 × 0.09 × 20
H = 9 × 20 = 180 ক্যালোরি (এই পরিমাণ তাপ বর্জিত হবে)।

টাইপ ২: তাপগ্রাহিতা ও জলসম

প্রশ্ন ২: কোনো বস্তুর ভর 100 গ্রাম ও আপেক্ষিক তাপ 0.09 cal/g°C হলে, তার তাপগ্রাহিতা ও জলসম কত?

ব্যবহৃত সূত্র:
তাপগ্রাহিতা = ভর (m) × আপেক্ষিক তাপ (s)
জলসম (CGS এককে) = তাপগ্রাহিতার সাংখ্যমান

সমাধান:
তাপগ্রাহিতা = 100 × 0.09 = 9 ক্যালোরি/°C
জলসম = 9 গ্রাম (কারণ CGS পদ্ধতিতে দুটি রাশির মান সমান)।

টাইপ ৩: অবস্থার পরিবর্তন বা লীনতাপ (Q = mL)

প্রশ্ন ৩: 100°C উষ্ণতার 5 গ্রাম জলকে 100°C উষ্ণতার স্টিমে (বাষ্পে) পরিণত করতে কত তাপ লাগবে? (জলের বাষ্পীভবনের লীনতাপ = 537 cal/g)

দেওয়া আছে:
ভর (m) = 5 গ্রাম
লীনতাপ (L) = 537 cal/g

ব্যবহৃত সূত্র: Q = m × L

সমাধান:
Q = 5 × 537 = 2685 ক্যালোরি

টাইপ ৪: একাধিক ধাপের অঙ্ক (বরফ গলিয়ে জল গরম করা)

প্রশ্ন ৪: 0°C উষ্ণতার 100 গ্রাম বরফকে 100°C উষ্ণতার জলে পরিণত করতে মোট কত তাপ লাগবে? (বরফের গলনের লীনতাপ = 80 cal/g)

এই অঙ্কটি দুটি ধাপে করতে হবে:

ধাপ ১: বরফ গলিয়ে জল বানানো (অবস্থার পরিবর্তন)
সূত্র: Q₁ = m × L = 100 গ্রাম × 80 cal/g = 8,000 ক্যালোরি

ধাপ ২: 0°C-এর জলকে 100°C-এর জলে পরিণত করা (তাপমাত্রা পরিবর্তন)
সূত্র: Q₂ = m × s × t = 100 গ্রাম × 1 cal/g°C × (100 - 0)°C = 10,000 ক্যালোরি

মোট প্রয়োজনীয় তাপ:
মোট তাপ (Q) = Q₁ + Q₂ = 8,000 + 10,000 = 18,000 ক্যালোরি

তাপ কীভাবে যাতায়াত করে? (তাপ সঞ্চালনের তিনটি পদ্ধতি)

তাপ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তিনটি উপায়ে যেতে পারে:

  1. পরিবহন (Conduction):
    • কোথায় হয়? মূলত কঠিন পদার্থে।
    • কীভাবে? কণাগুলো নিজেরা নড়াচড়া না করে, শুধু পাশের কণাকে তাপ শক্তি পাস করে দেয়।
    • উদাহরণ: গরম চায়ের কাপে চামচ ডোবালে চামচের হাতল গরম হয়ে যাওয়া।
  2. পরিচলন (Convection):
    • কোথায় হয়? তরল ও গ্যাসীয় পদার্থে।
    • কীভাবে? কণাগুলো তাপ পেয়ে গরম ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং উপরের ঠান্ডা ও ভারী কণাগুলো নীচে নেমে আসে।
    • উদাহরণ: হাঁড়িতে জল গরম করা।
  3. বিকিরণ (Radiation):
    • কোথায় হয়? এর জন্য কোনো মাধ্যমেরই প্রয়োজন হয় না!
    • কীভাবে? তাপ সরাসরি তরঙ্গের আকারে আলোর গতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
    • উদাহরণ: সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসা।

তিন পদ্ধতির তুলনা (এক নজরে)

বৈশিষ্ট্য পরিবহন পরিচলন বিকিরণ
মাধ্যম লাগে? হ্যাঁ, কঠিন মাধ্যম হ্যাঁ, তরল বা গ্যাস না
কণারা নড়াচড়া করে? না হ্যাঁ, স্থান পরিবর্তন করে কণার ব্যাপারই নেই
গতি কেমন? ধীরে ধীরে খুব দ্রুত (আলোর গতিতে)
পথ কেমন? আঁকাবাঁকা হতে পারে আঁকাবাঁকা হতে পারে সরলরেখা

জলের অদ্ভুত আচরণ (ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ)

সব তরল পদার্থকে গরম করলে আয়তনে বাড়ে এবং ঠান্ডা করলে আয়তনে কমে। কিন্তু জল এখানে একটু ব্যতিক্রম!

জলের এই অদ্ভুত আচরণকেই ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ বলে। এর ফলেই শীতপ্রধান দেশে হ্রদের উপরিভাগে বরফ জমলেও নীচে জল থাকে এবং জলজ প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারে।

জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণের লেখচিত্র।

সম্পৃক্ত বাষ্প (Saturated Vapour) কী?

ধরুন, একটি বন্ধ ঘরে 10টি চেয়ার আছে। যদি ঘরে ঠিক 10 জন লোক এসে বসে যায়, তবে ঘরটি লোক দিয়ে "সম্পৃক্ত" বা "ভর্তি" হয়ে যায়, আর কোনো লোক বসার জায়গা থাকে না। বাষ্পের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই।

সম্পৃক্ত বাষ্প: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়, কোনো বন্ধ জায়গায় সর্বাধিক যে পরিমাণ বাষ্প থাকতে পারে, সেই পরিমাণ বাষ্প উপস্থিত থাকলেই তাকে সম্পৃ্ক্ত বাষ্প বলে। এর বেশি বাষ্প ওই জায়গায় আর থাকতে পারে না।

ধন্যবাদ

```