CLASS 01

বিষয়: আলোর জগৎ-এ তোমাদের স্বাগতম!

নমস্কার বন্ধুরা!
আজ আমরা একটা খুব মজার জিনিস নিয়ে গল্প করব। সেই জিনিসটা ছাড়া আমরা কিছুই দেখতে পেতাম না। বলো তো কী সেটা? ঠিক ধরেছ, আলো! চলো, আজ আমরা আলোর জগৎ-এ একটা দারুণ সফর করি।

আলো কী? (What is Light?)

আচ্ছা বলো তো, আমরা সবকিছু কী দিয়ে দেখি?
চোখ দিয়ে, তাই না?

কিন্তু যদি একটা ঘরে কোনো লাইট না জ্বলে, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে, তখন কি চোখ খোলা রাখলেও কিছু দেখা যায়? যায় না।

কারণ, কোনো কিছু দেখার জন্য চোখের সাথে আরও একটা জিনিস লাগে, আর সেটাই হলো আলো। আলো এসে আমাদের চোখে পড়লে তবেই আমরা চারপাশের সুন্দর জিনিসগুলো দেখতে পাই।

একটি অন্ধকার ঘরে একটি মাত্র বাল্ব জ্বলছে, যা দেখার জন্য আলোর প্রয়োজনীয়তা বোঝাচ্ছে।
মনে রেখো: আলো আমাদের দেখতে সাহায্য করে, কিন্তু আলোকে নিজে দেখা যায় না। কী মজার ব্যাপার, তাই না?

আলো কোথা থেকে আসে? (Source of Light)

যেসব জিনিস থেকে আলো বের হয়, তাদের বলে আলোক উৎস। এরা দুই ধরনের হয়:

১. যাদের নিজের আলো আছে (স্বপ্রভ বস্তু)

এরা নিজেরাই আলো তৈরি করতে পারে। এরা কারও থেকে আলো ধার করে না। যেমন: সূর্য, তারা, জোনাকি পোকা, মোমবাতি

মেঘের উপর থেকে উদিত সূর্য, একটি স্বপ্রভ বস্তুর উদাহরণ।

২. যাদের নিজের আলো নেই (অপ্রভ বস্তু)

এদের নিজের কোনো আলো নেই। অন্য কারও আলো এদের গায়ে পড়লে তবেই এদের দেখা যায়। যেমন: চাঁদ, আমাদের পড়ার বই, খেলার বল, গাছ, ঘরবাড়ি।

জানতে হবে: চাঁদের কিন্তু নিজের আলো নেই। ও সূর্যের আলো গায়ে মেখে চকচক করে, তাই আমরা চাঁদকে আলোকিত দেখি।
রাতের আকাশে উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ, একটি অপ্রভ বস্তুর উদাহরণ।

আলো কেমন পথে চলে? (Path of Light)

আলো খুব সোজা-সাপ্টা একটা বন্ধু। ও একদম সোজা পথে চলে। কখনও আঁকাবাঁকা পথে যায় না।

খেলা: একটা টর্চ জ্বেলে দেখবে, আলোটা একদম সোজা গিয়ে দেয়ালে পড়ে। কখনও কি দেখেছ আলোটা সাপের মতো এঁকেবেঁকে যাচ্ছে? না!

একটি টর্চ থেকে আলোকরশ্মি সোজা পথে অগ্রসর হচ্ছে।

ছায়া কী? (What is a Shadow?)

আলো তো সোজা পথে চলে। এখন, তার চলার পথে যদি তুমি দাঁড়িয়ে পড়ো, আলো কি তোমার ভেতর দিয়ে চলে যেতে পারবে? পারবে না। তখন তোমার পেছনের দিকে একটা অন্ধকার জায়গা তৈরি হবে। ওই অন্ধকার জায়গাটাই হলো তোমার ছায়া

চলো ছায়া নিয়ে খেলি: আজই ঘরের দেয়ালে টর্চের আলো ফেলে হাত দিয়ে নানা রকম পশুপাখির ছায়া বানিয়ে খেলবে কিন্তু!

দেয়ালে হাতের সাহায্যে পাখির ছায়া তৈরি করা হয়েছে।

আলোর ধাক্কা খাওয়া (প্রতিফলন - Reflection)

তোমরা দেয়ালে বল ছুঁড়ে খেলো না? বলটা দেয়ালে লেগে আবার তোমার কাছে ফিরে আসে। আলোও ঠিক ওরকম! যখন আলো আয়না বা চকচকে কোনো জিনিসে (যেমন স্টিলের থালা) গিয়ে ধাক্কা খায়, তখন ও আবার ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসাকেই বলে প্রতিফলন

উদাহরণ: আয়নার সামনে দাঁড়ালে আমরা নিজেদের দেখতে পাই এই প্রতিফলনের জন্যই।
একটি আয়নায় প্রকৃতির সুন্দর প্রতিফলন ঘটেছে।

কেমন জিনিসের ভেতর দিয়ে আলো যায়? (Types of Objects)

সব জিনিসের ভেতর দিয়ে কি আলো যেতে পারে? না। এই নিয়ে জিনিসগুলো তিন রকম হয়:

জিনিসের নাম মানে কী? উদাহরণ
স্বচ্ছ (Transparent) যার ভেতর দিয়ে আলো সহজেই চলে যেতে পারে। এগুলোর এপার-ওপার সব দেখা যায়। কাচ, পরিষ্কার জল, বাতাস
ঈষৎ স্বচ্ছ (Translucent) যার ভেতর দিয়ে আলো অল্প অল্প যেতে পারে। এগুলো দিয়ে দেখলে ঝাপসা লাগে। ঘষা কাচ, তৈলাক্ত কাগজ, পাতলা রঙিন প্লাস্টিক
অস্বচ্ছ (Opaque) যার ভেতর দিয়ে আলো একদমই যেতে পারে না। এরাই তো ছায়া তৈরি করে! কাঠ, বই, তোমার আমার শরীর, দেয়াল
স্বচ্ছ, ঈষৎ স্বচ্ছ এবং অস্বচ্ছ বস্তুর মধ্যে দিয়ে আলোর গমনের পার্থক্য দেখানো হয়েছে।

তাহলে আজ আমরা আলোর জগৎ থেকে কী কী শিখলাম?