অধ্যায় ৭: জীবেরা কীভাবে বংশবৃদ্ধি করে?

দিন/রাত

CLASS NO: 07

ভূমিকা: কেন বংশবৃদ্ধি জরুরি?

বন্ধুরা, বংশবৃদ্ধি বা প্রজনন কি বেঁচে থাকার জন্য জরুরি? না। কিন্তু যদি জীবেরা বংশবৃদ্ধি না করত, তাহলে তাদের প্রজাতিটাই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেত।

প্রজননের মূল কাজ হলো দেহের নকশার ব্লুপ্রিন্ট বা ডিএনএ (DNA)-এর কপি তৈরি করা। এই কপি করার প্রক্রিয়ায় ছোটখাটো ভুল হয়ে যায়, যাকে বলে প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন (Variation)। এই প্রকরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি প্রজাতিকে পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।

পর্ব ১: অযৌন জনন (Asexual Reproduction)

যখন একটি মাত্র জীব থেকে নতুন জীবের জন্ম হয়, তাকে বলে অযৌন জনন।

অযৌন জননের বিভিন্ন পদ্ধতি:

  1. বিভাজন (Fission): একটি কোষ ভেঙে দুই (দ্বিবিভাজন) বা ততোধিক (বহুবিভাজন) কোষ তৈরি হয়। যেমন, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম
  2. খণ্ডীভবন (Fragmentation): পরিণত জীব ছোট ছোট টুকরো বা খণ্ডে ভেঙে যায় এবং প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন জীবের জন্ম হয়। যেমন, স্পাইরোগাইরা
  3. পুনরুৎপাদন (Regeneration): শরীরের কোনো কাটা অংশ থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটা জীব তৈরি হতে পারে। যেমন, হাইড্রা, প্ল্যানেরিয়া
  4. মুকুলোদগম (Budding): জীবের শরীরে একটা ছোট উপবৃদ্ধি বা মুকুল (Bud) তৈরি হয়, যা পরে নতুন জীবে পরিণত হয়। যেমন, হাইড্রা, ইস্ট
  5. অঙ্গজ জনন (Vegetative Propagation): উদ্ভিদ তাদের মূল, কাণ্ড বা পাতা থেকে নতুন গাছ তৈরি করতে পারে। যেমন, গোলাপের ডাল।
  6. রেণু গঠন (Spore Formation): রেণু বা স্পোর (Spore) তৈরির মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। যেমন, পাউরুটির ওপরের ছত্রাক।

পর্ব ২: যৌন জনন (Sexual Reproduction)

যখন দুটি ভিন্ন জীব (সাধারণত একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী) থেকে নতুন জীবের জন্ম হয়, তখন তাকে বলে যৌন জনন। এই পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন ডিএনএ একত্রিত হওয়ায় অনেক বেশি প্রকরণ তৈরি হয়।

যৌন জননে দুটি বিশেষ কোষ বা গ্যামেট (Gamete) তৈরি হয়: পুরুষ গ্যামেট (শুক্রাণু) এবং স্ত্রী গ্যামেট (ডিম্বাণু)। এদের মিলনকে নিষেক (Fertilisation) বলে, যার ফলে জাইগোট (Zygote) তৈরি হয়।

সপুষ্পক উদ্ভিদে যৌন জনন:

মানবদেহে প্রজনন

মানুষের জীবনে বয়ঃসন্ধিকালে (Puberty) কিছু শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে, যা তাদের যৌন জননের জন্য প্রস্তুত করে।

পুরুষ প্রজননতন্ত্র (Male Reproductive System):

মহিলা প্রজননতন্ত্র (Female Reproductive System):

নিষেক ও ভ্রূণের বিকাশ

যৌন মিলনের সময় শুক্রাণু যোনি দিয়ে প্রবেশ করে ফ্যালোপিয়ান টিউবে পৌঁছায় এবং ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে। নিষিক্ত ডিম্বাণুটি (জাইগোট) জরায়ুতে এসে প্রোথিত হয় এবং ধীরে ধীরে ভ্রূণ (Embryo) ও পরে ফিটাস (Foetus)-এ পরিণত হয়। প্ল্যাসেন্টা বা অমরা (Placenta) নামক একটি বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের শরীর থেকে পুষ্টি ও অক্সিজেন গ্রহণ করে।

ঋতুস্রাব (Menstruation):

যদি ডিম্বাণু নিষিক্ত না হয়, তবে জরায়ুর ভেতরের পুরু আস্তরণটি ভেঙে যায় এবং রক্ত ও শ্লেষ্মা হিসেবে যোনি দিয়ে বেরিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়াটি প্রতি মাসে ঘটে এবং একে ঋতুস্রাব বলে।

প্রজনন স্বাস্থ্য (Reproductive Health):

যৌন মিলনের মাধ্যমে কিছু রোগ (যেমন, গনোরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি-এইডস) ছড়াতে পারে। **কনডম** ব্যবহার করলে এই রোগগুলো থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যায়।

অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ রুখতে বিভিন্ন গর্ভনিরোধক পদ্ধতি (Contraceptive Methods) ব্যবহার করা হয়, যেমন—কনডম, গর্ভনিরোধক পিল, কপার-টি ইত্যাদি।