বন্ধুরা, তোমরা সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত যা যা জিনিস ব্যবহার করো—যেমন তোমার টুথব্রাশ, খাবার, পোশাক, বই, খাতা, এমনকি তোমার নিজের শরীর—এই সবকিছুর মধ্যেই একজন জাদুকর লুকিয়ে আছে। সেই জাদুকরের নাম হলো কার্বন (Carbon)।
ভাবতে অবাক লাগে, তাই না? পৃথিবীতে কার্বন খুব অল্প পরিমাণে আছে, কিন্তু আমাদের জীবনের প্রায় সবকিছুই এই কার্বন দিয়ে তৈরি।
কার্বন বন্ধুত্ব করে শেয়ারিং (Sharing) বা ভাগাভাগি করে। কার্বনের বাইরের কক্ষে চারটি ইলেকট্রন আছে। তাই সে অন্য পরমাণুর সাথে নিজের ইলেকট্রনগুলো ভাগাভাগি করে। এই ভাগাভাগি করে যে বন্ধুত্ব বা বন্ধন তৈরি হয়, তাকে বলে সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond)।
কার্বন একাই তিন রকম রূপে থাকতে পারে!
কেন কার্বন লক্ষ লক্ষ যৌগ তৈরি করতে পারে? এর পেছনে রয়েছে কার্বনের দুটি সুপারপাওয়ার:
এটা হলো কার্বনের নিজের সাথেই বন্ধুত্ব করার অসাধারণ ক্ষমতা। কার্বন পরমাণুগুলো একে অপরের সাথে জুড়ে গিয়ে লম্বা শিকল (Chain), শাখাযুক্ত শিকল (Branched Chain) বা এমনকি আংটির মতো বলয় (Ring) তৈরি করতে পারে।
কার্বনের যোজ্যতা হলো চার। অর্থাৎ, সে একই সাথে চারটি বন্ধন তৈরি করতে পারে। সে অন্য চারটি কার্বন পরমাণুর সাথে বা হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেনের মতো অন্য মৌলের সাথেও বন্ধুত্ব করতে পারে।
কার্যকরী মূলক (Functional Group):
অনেক সময় হাইড্রোকার্বন শৃঙ্খলের হাইড্রোজেনকে সরিয়ে অন্য কোনো পরমাণু বা গ্রুপ এসে বসে। এই নতুন অতিথিরাই যৌগের চরিত্র নির্ধারণ করে দেয়। যেমন: অ্যালকোহল (—OH), অ্যালডিহাইড (—CHO), কিটোন (>C=O), কার্বক্সিলিক অ্যাসিড (—COOH)।
এটা হলো একই কার্যকরী মূলকযুক্ত যৌগদের একটা পরিবার। এই পরিবারের সদস্যদের রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম হয়, শুধু কার্বন শৃঙ্খলের দৈর্ঘ্য আলাদা হয়। যেমন, মিথানল, ইথানল, প্রোপানল—এরা সবাই অ্যালকোহল পরিবারের সদস্য।
কার্বন ও তার যৌগগুলো (যেমন কাঠ, কয়লা, পেট্রোল, LPG) অক্সিজেনে পুড়লে প্রচুর তাপ ও আলো তৈরি করে। এই জন্যই আমরা এদের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি।
কিছু জারক পদার্থের সাহায্যে অ্যালকোহলকে জারিত করে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডে পরিণত করা যায়। যেমন, ইথানল থেকে ইথানোয়িক অ্যাসিড তৈরি হয়।
অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন (যাদের দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন আছে) হাইড্রোজেনকে নিজের সাথে যুক্ত করে সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনে পরিণত হতে পারে। বনস্পতি ঘি বা ডালডা এভাবেই উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি করা হয়।
সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনে, কোনো পরমাণুকে সরিয়ে অন্য কোনো পরমাণু এসে তার জায়গা নিতে পারে। যেমন, সূর্যালোকের উপস্থিতিতে মিথেন ক্লোরিনের সাথে বিক্রিয়া করে।
কাপড়ে লাগা তেল-ময়লা জল দিয়ে ধুলে ওঠে না। কিন্তু সাবান দিলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। কীভাবে?
সাবানের অণুর দুটি মাথা আছে:
যখন আমরা সাবান জলে গুলে কাপড়ে দিই, তখন জলবিদ্বেষী লেজগুলো তেল-ময়লার কণার দিকে ছুটে গিয়ে তাকে ঘিরে ধরে, আর জলপ্রেমী মাথাগুলো বাইরের দিকে জলের মধ্যে থাকে। এইভাবে একটা গোল বলের মতো গঠন তৈরি হয়, যাকে বলে মাইসেল (Micelle)।