বন্ধু, চলো আমাদের চারপাশের কিছু ম্যাজিক দেখি!
আচ্ছা, গরমকালে দুধ বাইরে রাখলে কী হয়? টক হয়ে যায়, তাই না? আবার একটা লোহার পেরেক যদি ভেজা বাতাসে ফেলে রাখো, দেখবে ওটার ওপর লালচে একটা আস্তরণ পড়েছে, যেটাকে আমরা মরিচা বলি। আঙুর পচে গেলে, ভাত রান্না করলে, এমনকি আমাদের পেটের ভেতর খাবার হজম হওয়া বা আমাদের শ্বাস নেওয়া—এই সবকিছুতেই কিন্তু একটা জাদু লুকিয়ে আছে।
এই জাদুটাই হলো রাসায়নিক পরিবর্তন। যখন কোনো জিনিসের আসল স্বভাব বা পরিচয় বদলে গিয়ে নতুন কিছু তৈরি হয়, তখন আমরা বলি রাসায়নিক বিক্রিয়া (Chemical Reaction) ঘটেছে।
খুব সোজা! চারটে লক্ষণ খেয়াল করলেই হবে:
যেমন, ম্যাগনেসিয়ামের একটা ফিতেকে যখন আগুনে পোড়ানো হয়, তখন সেটা দপ করে সাদা আলো দিয়ে জ্বলে ওঠে আর সাদা গুঁড়ো ছাই তৈরি করে। এই ছাইটা হলো নতুন জিনিস—ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড। এখানে রঙের পরিবর্তন, আলোর ঝলকানি—সবই হলো।
একটা রাসায়নিক বিক্রিয়াকে লম্বা করে বাক্যে বর্ণনা করা খুব ঝামেলার। তাই বিজ্ঞানীরা একটা শর্টকাট উপায় বের করেছেন। একে বলে রাসায়নিক সমীকরণ (Chemical Equation)।
ধরো, আমরা বলতে চাই "ম্যাগনেসিয়াম আর অক্সিজেন মিলে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড তৈরি করে।" এটাকে ছোট করে লেখা যায়:
রসায়নে প্রত্যেকটা জিনিসের একটা করে সাংকেতিক নাম (Symbol/Formula) আছে। তাহলে সমীকরণটা দাঁড়াল:
বিজ্ঞানের একটা পাকা নিয়ম আছে – কোনো জিনিস এমনি এমনি উধাও হয়ে যায় না, বা আকাশ থেকেও পড়ে না। একে বলে ভরের সংরক্ষণ সূত্র। এর মানে, বিক্রিয়ার আগে যতগুলো পরমাণু থাকবে, বিক্রিয়ার পরেও ঠিক ততগুলোই থাকতে হবে। আমাদের সমীকরণের দু'দিক মেলাতে হবে। এই মেলানোকেই বলে সমতাবিধান (Balancing)।
চলো, Fe + H₂O → Fe₃O₄ + H₂ এই সমীকরণটা মেলানো শিখি:
ব্যাস! মিলে গেল! দু'দিকেই এখন ৩টা লোহা, ৮টা হাইড্রোজেন আর ৪টা অক্সিজেন আছে। এটাই হলো সমতাবিধানযুক্ত সমীকরণ।
সব রাসায়নিক বিক্রিয়া একরকম হয় না। চলো, ওদের পরিবারের সাথে পরিচিত হই।
যখন দুই বা ততোধিক জিনিস জুড়ে গিয়ে শুধুমাত্র একটি নতুন জিনিস তৈরি করে। (A + B → AB)
এটা সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক উল্টো। এখানে একটি জিনিস ভেঙে গিয়ে দুই বা ততোধিক নতুন জিনিস তৈরি করে। (AB → A + B)
যখন একটি বেশি শক্তিশালী মৌল কোনো যৌগ থেকে একটি কম শক্তিশালী মৌলকে সরিয়ে দিয়ে তার জায়গা দখল করে। (A + BC → AC + B)
যখন দুটি যৌগ নিজেদের মধ্যে আয়ন বা সঙ্গীদের বিনিময় (exchange) করে। (AB + CD → AD + CB)
এখানে, CuO থেকে অক্সিজেন চলে গেছে (বিজারণ), আর H₂-এর সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়েছে (জারণ)।
এই জারণ-বিজারণ আমাদের জীবনে প্রতিদিন ঘটে চলেছে। এর দুটো খারাপ দিক হলো:
যখন কোনো ধাতু, বিশেষ করে লোহা, বাতাস আর জলের সংস্পর্শে এসে নষ্ট হতে শুরু করে, তখন তাকে ক্ষয় বলে। লোহার ক্ষেত্রে একে আমরা মরিচা পড়া বলি। রুপোর জিনিস কালো হয়ে যাওয়া বা তামার পাত্রে সবুজ ছোপ পড়াও ক্ষয়ের উদাহরণ।
এই কারণে আমরা লোহার জিনিসে রঙ করি, যাতে বাতাস আর জলের হাত থেকে বাঁচানো যায়।
তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার (যেমন চিপস, ভাজাভুজি) অনেকদিন ফেলে রাখলে বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে একটা বাজে গন্ধ বের হয় আর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। একেই জারিতগন্ধতা বলে।
এর থেকে বাঁচার উপায় কী?
চিপসের প্যাকেটে দেখবে অনেক হাওয়া ভরা থাকে। ওটা কিন্তু সাধারণ বাতাস নয়, ওটা নাইট্রোজেন গ্যাস! নাইট্রোজেন খুব অলস, সে তেলের সাথে বিক্রিয়া করে না। তাই চিপস অনেকদিন মুচমুচে আর টাটকা থাকে।